ভালোবাসার শেষ সন্ধ্যা

রাতের আকাশটা আজ একটু বেশি অন্ধকার। চাঁদের আলোটুকুও যেন হারিয়ে গেছে ক্লান্ত মেঘের ভিড়ে। ঠিক তেমনই নিঃশব্দ হয়ে বসে আছে রিয়া, সেই পুরনো নদীর ঘাটে। আজ থেকে পাঁচ বছর আগে এই ঘাটেই প্রথম দেখা হয়েছিল রিয়া আর আদিত্যর। সেদিনও ঠিক এমনই ছিল সন্ধ্যা। আদিত্য ছিল শহরের ছেলে, আর রিয়া গ্রামের। দুজনের দুনিয়া আলাদা হলেও মনের ভাষা এক ছিল — ভালোবাসা। নদীর জলের মতোই প্রবাহমান সেই ভালোবাসা ধীরে ধীরে গভীর হয়। একসাথে কাটানো বিকেলগুলো, নদীর ধারে হেঁটে যাওয়া সেই দিনগুলো আজও রিয়ার চোখে ভাসে। কিন্তু সমাজের কাঁটাতার সেই ভালোবাসার উপর ছায়া ফেলতে থাকে। রিয়ার পরিবার কখনোই মেনে নিতে পারেনি এই সম্পর্ক। "শহরের ছেলেরা শুধু খেলতে আসে মেয়েদের নিয়ে," এটাই ছিল তাদের ধারণা। আর আদিত্য? সে সব ছেড়ে রিয়াকে আপন করতে চেয়েছিল। অনেক বুঝিয়েছিল পরিবারকে, অনেকটা লড়াই করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হেরে যেতে হয় তাদের দুজনকেই। রিয়া তার পরিবারের ইচ্ছায় অন্যত্র বিয়ে করে ফেলে। বিয়ের পর সে বুঝতে পারে, ভালোবাসা শুধু শ্বাস নেওয়া নয় — ভালোবাসা মানে বাঁচার শক্তি। সেই শক্তিটুকু সে হারিয়ে ফেলেছিল বিয়ের পরে। পাঁচ বছর পর আজ আবার সেই নদীর ঘাটে এসেছে রিয়া। চোখে জল আর মনে অসীম শূন্যতা। জীবনটা যেন একটি বিরহের কাব্য হয়ে গেছে। হঠাৎই পেছন থেকে এক কণ্ঠস্বর শোনা যায় — "রিয়া, তুমি এখনো আসো এখানে?" ঘুরে দাঁড়িয়ে দেখে, আদিত্য। চুলে সাদা চিহ্ন পড়েছে, চোখে ক্লান্তি, তবুও সেই পুরনো ভালোবাসার দীপ্তি এখনো আছে। দুজনেই কিছু বলে না। শুধু তাকিয়ে থাকে নদীর জলের দিকে। ভালোবাসা কখনো মরে না, শুধু সময়ের স্রোতে ভেসে যায়। রিয়া চোখ মুছে বলে, "আমরা হেরেছি আদিত্য, কিন্তু আমাদের ভালোবাসা জিতে গেছে।" আদিত্য মুচকি হেসে বলে, "ভালোবাসা কখনো শেষ হয় না, রিয়া। এই নদীর মতোই চিরকাল বয়ে চলে।" আকাশে হঠাৎ চাঁদ উঁকি দেয়। হয়তো তাদের ভালোবাসার সাক্ষী হয়ে। রিয়ার বুকের গভীরে এক দীর্ঘশ্বাস, আর আদিত্যের চোখে হালকা জল। তারা জানে এই দেখা আবার বিদায় হবে। কিন্তু মন জানে, তাদের আত্মার বন্ধন চিরকাল অটুট। আজকের এই শেষ সন্ধ্যাটা আসলে নতুন শুরুর প্রতিশ্রুতি। ভালোবাসা কখনো শেষ হয় না, শুধু রূপ পাল্টায়।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অভিমান যখন ভালোবাসার পরিক্ষা — এক হৃদয়ছোঁয়া গল্প

"বাংলা বীরহের গল্প", "বিচ্ছেদের ভালোবাসার গল্প"