নিশির ডাক: ভৌতিক বাংলা গল্প | রাতের অন্ধকারে লুকানো এক ভয়ংকর সত্য
নিশির ডাক (বর্ধিত গল্প)
রাত তখন গভীর। সারা গ্রাম ঘুমিয়ে, কেবল শিয়াল আর কুকুরের ডাক ভেসে আসছে দূর থেকে। অনন্তপুর গ্রামের শেষ মাথায়, বুড়ো দুলাল চাচা হঠাৎ উঠানে এসে দাঁড়ালেন। তাঁর কানে আবার সেই ডাক—
"রামু... রামু... চল তো একটু বাইরে..."
রামু চাচার বড় ছেলে। বছর দুয়েক আগে বন্যায় ভেসে মারা গেছে। কিন্তু আজ রাতেও সেই ডাক, ঠিক রামুর গলায়। ভয় আর কৌতূহল নিয়ে দুলাল চাচা পা বাড়ালেন গ্রামের শ্মশান ঘাটের দিকে।
এদিকে গ্রামের লোকজন বলাবলি করছিল, এই ডাক কেউ শুনলেই আর ফিরতে পারে না। আগের মাসে ঝর্না বৌদি গৃহস্থালি কাজ শেষে রাতে সেই ডাক শুনে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। পরদিন সকালে তাঁকে পাওয়া যায়নি। শুধু খালের পাড়ে তাঁর ভাঙা চুড়ি আর রক্তের দাগ মিলেছিল।
দুলাল চাচা এগোতেই বাতাস ভারী হয়ে উঠল। চারপাশে শুধু শীতল হাওয়া আর অদ্ভুত গন্ধ। হঠাৎ পেছনে তাকাতেই—একটা সাদা শাড়ি পরা মেয়ে। চুল এলোমেলো, চোখ লাল।
"তুমি আমায় চিনলে না চাচা? আমি ঝর্না। আমার সঙ্গে চলো..."
এতদিন যার মৃত্যুর কথা সবাই বলত, সে আজ তাঁর সামনে! ভয় আর অবিশ্বাসে পা চলছিল না চাচার।
ঠিক তখনই গ্রামের পুরনো মন্দির থেকে ঘণ্টা বাজতে লাগল। সেই শব্দে যেন ঝর্নার ছায়াটা কেঁপে উঠল। আর মুহূর্তের মধ্যে মিলিয়ে গেল অন্ধকারে।
দুলাল চাচা দৌড়ে মন্দিরের দিকে ছুটলেন। সেখানেই গ্রামের পুরোহিত বসে পুজো করছিলেন নিশির হাত থেকে বাঁচার জন্য। চাচা পড়ে গেলেন মাটিতে।
তাঁর শরীর তখন কাঁপছে, কিন্তু মনে হলো যেন কারো অদৃশ্য হাত তাঁকে টেনে নিচ্ছিল অন্ধকারের গহ্বরে...
পরদিন সকাল। গ্রামে আবার শোকের ছায়া। দুলাল চাচাকে পাওয়া গেল শ্মশানের পাশে, অচেতন অবস্থায়। মুখে শুধু একটা কথা—"নিশি আবার আসবে... এবার তোমাদের ডাকবে!"
---
ভূতের গল্প শুধু ভয় পাওয়ার জন্য নয়, এতে লুকিয়ে থাকে সাবধানতার বার্তা। নিশির ডাক আমাদের শেখায়, রাতের অন্ধকারে অচেনা আওয়াজে সাড়া দেওয়া বিপজ্জনক। গ্রামের প্রাচীন বিশ্বাস আর বাস্তব ঘটনার মিশেল এই গল্প।
---আপনারাও কি কখনো নিশির ডাক শুনেছেন? কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না!

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মন্তব্য আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দয়া করে গঠনমূলক মন্তব্য করুন।