রহস্যময় নীলবাড়ি — এক ভূতের আতঙ্কের গল্প
বাংলাদেশের উত্তর প্রান্তের একটি গ্রাম, যার নাম পাথরঘাটা। সেই গ্রামের পাশেই ছিল একটি পুরনো জমিদার বাড়ি — যার নাম ছিল নীলবাড়ি। গ্রামের মানুষ সেই বাড়ির দিকে তাকাতেও ভয় পেতো, কারণ শোনা যেত রাতে সেখানে নাকি ভূতের আনাগোনা হয়।
অনেক বছর আগে সেই বাড়ির জমিদার রায়বাহাদুর নীলমণি সাহা রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। তারপর থেকে বাড়িতে অদ্ভুত শব্দ শোনা যেত। কেউ বলতো রাত ১২টার সময় এক সাদা শাড়ি পরা মেয়ে বাড়ির বারান্দায় হেঁটে বেড়ায়।
গ্রামের যুবক সুমন সাহস করে ঠিক করলো — সে এক রাতে নীলবাড়িতে যাবে সব রহস্য খুঁজে বের করতে। বন্ধুরা অনেক বুঝালো, কিন্তু সুমন থামলো না। এক পূর্ণিমার রাতে সে লণ্ঠন হাতে নিয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকলো।
বাড়ির ভেতর ছিল জং ধরানো আসবাব, আর চারপাশে শুধু পাথরচাপা নীরবতা। হঠাৎ করেই সে শুনলো কারা যেন ফিসফিস করছে। তার শরীর শিউরে উঠলো। সে এগোতেই দেখলো দেয়ালে রক্ত দিয়ে লেখা — "তুই বাঁচবি না!"
সুমন ভয় পেয়ে পেছনে তাকালো, কিন্তু সেখানে কেউ ছিল না। তখনই বাতাসের ঝাপটা এসে লণ্ঠন নিভে গেল। চারদিক অন্ধকার। তারপর যেন ঘরের এক কোণ থেকে একটা মেয়ের কান্নার শব্দ এলো...
সুমন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলো, কিন্তু দরজা আপনা থেকে বন্ধ হয়ে গেল। সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরের দিন সকালে গ্রামের লোকজন এসে দেখে, সুমন বাড়ির বারান্দায় অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে।
জ্ঞান ফেরার পর সুমন শুধু এটুকু বলতে পারলো —
"নীলবাড়িতে ওরা আছে... আমি আর কখনো যাবো না।"
তারপর থেকে কেউ আর সাহস করে নীলবাড়ির দিকে যায় না।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মন্তব্য আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দয়া করে গঠনমূলক মন্তব্য করুন।